Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বাণিজ্য মেলায় মাত্রাতিরিক্ত শব্দ দূষণ, বিরক্ত দর্শনার্থীরা

বাণিজ্য মেলায় মাত্রাতিরিক্ত শব্দ দূষণ, বিরক্ত দর্শনার্থীরা
ছবি: বার্তা২৪
শিহাবুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় মাইক ও সাউন্ড বক্সের উচ্চ শব্দে বিরক্ত হচ্ছেন মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থী ও ক্রেতারা। অনেকে আবার নাম প্রকাশ না করে মেলায় স্থাপন করা অভিযোগ বক্সে লিখিত অভিযোগও করছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/14/1547469545356.jpg

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের আয়োজিত মেলায় সোমবার (১৪ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেলার সম্পূর্ণ এলাকাজুড়ে কর্তৃপক্ষের মাইক স্থাপন করা হয়েছে। এগুলো দিয়ে মেলা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য ও বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। এর বাইরে স্টল ও প্যাভিলিয়নের সামনে কোনো সাউন্ড বক্স স্থাপন করার নিয়ম নেই।

নিয়ম না মেনে অনেক প্যাভিলিয়ন ও স্টলের সামনে ব্যক্তিগত ভাবে স্থাপন করা হয়েছে সাউন্ড বক্স। এতে মেলায় সৃষ্টি হয়েছে এক বিরক্তিকর পরিবেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/14/1547469565338.jpg

মেলায় ঘুরতে আশা এক দর্শনার্থী পরিচয় প্রকাশ না করে অভিযোগ কেন্দ্রে মাইকের উচ্চ শব্দের কথা লিখিত অভিযোগ করেন। অন্য আরেকজন লিখেছেন, 'অতিরিক্ত শব্দ দূষণ'।

ধানমন্ডি আবাহনী মাঠ এলাকা থেকে আসা গৃহিণী সাবিনা ইয়াসমিন। সঙ্গে তার ৭ বছরের সন্তান। তিনি বার্তা২৪কে অভিযোগ করে বলেন, শব্দগুলো তীব্রভাবে কানে লাগছে, ব্রেইনেও লাগছে। এটাতো আমাদের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া বাচ্চাকে নিয়ে এসেছি, ওদের জন্য তো আরও বেশি ক্ষতিকর।

শব্দ দূষণ নিয়ে মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব আবদুর রউফ বার্তা২৪কে বলেন, স্টলের সামনে নিজস্বভাবে বক্স স্থাপন করার নিয়ম নেই। এটা আমাদের নজরে এসেছে। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

আপনার মতামত লিখুন :

অভিভাবকহীন পুঁজিবাজার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যস্ত আইনের ফুলঝুড়িতে

অভিভাবকহীন পুঁজিবাজার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যস্ত আইনের ফুলঝুড়িতে
ছবি: সংগৃহীত

ডিমিউচ্যুলাইজড পরবর্তী পুঁজিবাজারের অভিভাবক বলা হয় স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি)। পুঁজিবাজারের ক্রান্তিকালে দেশের দুই বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জই (সিএসই) এখন সেই অভিভাবক শূন্য। কোনোটিতেই এমডি নেই। দু’টোই চলছে ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তোলনসহ পুঁজিবাজারের প্রাথমিক কাজ করার দায়িত্ব স্টক এক্সচেঞ্জের। আর এ দায়িত্বটি সম্পূর্ণ পালন করেন এমডি। কিন্তু বাজারের ক্রান্তিকালে গত ১২ দিন ধরে ডিএসইতে এমডি নেই। অপর বাজার সিএসইতে নেই দেড় মাস ধরে। ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিয়েই চলছে স্টক এক্সচেঞ্জ দু’টির কার্যক্রম। পূর্ণকালীন এমডি না থাকায় স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন তারা।

এমডি নিয়োগ নিয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থারও কোনো মাথা ব্যথা নেই। বরং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বসে আছে লোক দেখানো আইন সংস্কারের ফুলঝুরি নিয়ে। প্রতিষ্ঠানটি পুঁজিবাজার কিংবা বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার জন্য কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ ডিএসইর সদস্যদের।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মির্জা এবি আজিজুল ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘স্টক এক্সচেঞ্জকে সুষ্ঠভাবে পরিচালনার জন্য একজন এমডি অব্যশক। আর তাকে অব্যশই নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি হতে হবে। তাহলে তার পরিকল্পনার আলোকেই স্টক এক্সচেঞ্জের কাজ এগিয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে কমিশনেরও তাকে সহযোগিতা করা উচিত।’

প্রায় একই কথা বলেন বিএসইসির আরেক সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে তো স্টক এক্সচেঞ্জ চলতে পারে না। এটি হওয়াও উচিত নয়। এমডির প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে বর্তমানে বাজারের যে পরিস্থিতি, তাতে তো একজন পূর্ণকালীন এমডি থাকা আরো বেশি প্রয়োজন।’

তিনি আরো বলেন, ‘ডিএসইর পর্ষদ এমডির মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করে থাকলে বিএসইসির সেটি অনুমোদন করা উচিত। যদি যুক্তিসংগত কোনো কারণে তার মেয়াদ বাড়ানো না যায়, তাহলে সেটিও দ্রুত জানানো উচিত। যাতে করে ডিএসইর পর্ষদ নতুন এমডি নিয়োগে কার্যক্রম শুরু করতে পারে। আর সিএসইকেও দ্রুত একজন যোগ্য এমডি খুঁজে বের করতে হবে।’

ডিএসইর তথ্য মতে, ডিএসইর এমডি হিসেবে কেএএম মাজেদুর রহমানের মেয়াদ শেষ হয় গত ১১ জুলাই। তাকে দ্বিতীয় মেয়াদে এমডি হিসেবে নিয়োগের জন্য গত ২৮ মে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) সুপারিশ করে অনুমোদনের জন্য পাঠায় ডিএসইর পর্ষদ। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এমডি নিয়োগের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি কমিশন। ফলে ডিএসইর সব ধরনের কার্যক্রম আটকে আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অপর পুঁজিবাজার সিএসইর এমডি হিসেবে এম সাইফুর রহমান মজুমদারের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ৩১ মে। এরপর থেকে এক্সচেঞ্জটির মহাব্যবস্থাপক মো. গোলাম ফারুক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু নতুন এমডি নিয়োগ হয়নি প্রতিষ্ঠানটিতেও।

নাম না প্রকাশের শর্তে সিএসইর এক পরিচালক বলেন, ‘সিএসইর পর্ষদ সাইফুর রহমানকে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য সুপারিশ করেনি। এরপর এক্সচেঞ্জটি এ পর্যন্ত দুই দফা এমডি নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। কিন্তু যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায়নি। আশা করি, পেয়ে যাব।’

এদিকে অভিভাবকহীন পুঁজিবাজারে ২০১০ সালের পর আরেক দফা ধস নামছে। নতুন এ ধসে ডিএসইর প্রধান সূচক আবার ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে অবস্থান করছে। আর তাতে সর্বশেষ ১৫ কার্যদিবসে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি হারিয়েছে সাড়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

সূচক আবারও ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে

সূচক আবারও ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

চলমান দরপতন আবারও ধসে রূপ নিয়েছে। ফলে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জর (ডিএসই) প্রধান সূচক কমে আবারও ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে চলে এসেছে। সূচকের পাশাপাশি কমেছে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম ও লেনদেন। আর তাতে বিনিয়োগকারীরা প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি টাকার পুঁজি হারাচ্ছেন। যা  আড়াই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে।

ডিএসইর তথ্য মতে, ২০১৬ সালে ২০ ডিসেম্বর ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিলো ৪ হাজার ৯৩১ পয়েন্ট। আর সোমবার (২২ জুলাই) সেই সূচক সকাল ১১ টা ৪০ মিনিট পর্য‌ন্ত সময়ে আগের দিনের চেয়ে ১০৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজা ৯২৬ পয়েন্ট। প্রধান সূচকের পাশাপাশি ডিএস-৩০ সূচক আগের দিনের চেয়ে কমেছে ৩৬ পয়েন্ট ।

এইকই অবস্থা চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)ও। সেখানে সিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ২৯৯ পয়েন্ট। নতুন করে পুঁজিবাজারের এই ধস যেন ২০১০ সালের চেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছেন বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে সব পুঁজি শেষ হয়ে যাবে এমন শঙ্কায় শেয়ার বিক্রির হিড়িক পড়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম হতাশা  কাজ করছে।

এ দিকে সর্বশেষ ১৫ কার্য‌দিবসে সাড়ে ২৭ লাখ বিনিয়োগকারীদের পুঁজি হাওয়া হয়েছে ৪৪ লাখ ৬ হাজার ৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ডিএসইর বিনিয়োগকারীদের পুঁজি নেই ২২ হাজার ৫০০কোটি ৯৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) বিনিয়োগকারীদের পুঁজি নেই ২২ হাজার ৭৬ কোটি ৪৯ লাখ ৭ হাজার টাকা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র