Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমেছে

আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমেছে
পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল- ছবি-সংগৃহিত।
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) জুলাই মাসের তুলনায় আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। তবে আগস্টে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। অপরদিকে খাদ্য পণ্যের মূল্যস্ফীতিও কমেছে।

বৃহস্পতিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ওই তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বিবিএস’র তথ্য অনুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে পয়েন্ট-টু-পয়েন্টের ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কমেছে। জুলাই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা আগস্ট মাসে কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগস্ট মাসে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশে, যা জুলাইয়ে ছিল ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। আর আগস্টে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশে, যা জুলাইয়ে ছিল ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ।’

বিবিএস’র তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে খাদ্য পণ্য, যেমন: চাল, মাছ-মাংস, ডিম, মসলার দাম কমছে। অপরদিকে, খাদ্যবহির্ভূত পণ্য যেমন: বস্ত্র, বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা সেবা, পরিবহন, শিক্ষা উপকরণের দাম বেড়েছে।

এছাড়াও গ্রামাঞ্চলে খাদ্য পণ্যের মূল্যস্ফীতি অপরিবর্তিত থাকলেও শহরে কমেছে। আর গ্রামে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের দাম বেড়েছে এবং কমেছে শহরে।

আপনার মতামত লিখুন :

পুঁজিবাজারে সূচকের ওঠানামা

পুঁজিবাজারে সূচকের ওঠানামা
ছবি: প্রতীকী

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সপ্তাহের পঞ্চম ও শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সূচকের ওঠানামা প্রবণতায় লেনদেন চলছে। এদিন বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১ পয়েন্ট এবং সিএসইর প্রধান সূচক সিএসসিএক্স কমেছে ৮ পয়েন্ট।

এছাড়াও একই সময়ে ডিএসইতে ৮৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার মোট লেনদেন হয়েছে এবং সিএসইতে ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।

ডিএসই ও সিএসই’র ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই

এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে সূচক বাড়ে। লেনদেনের শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টায়, শুরুতেই সূচক কমে যায়। প্রথম ৫ মিনিটেই ডিএসইএক্স সূচক বাড়ে ৬ পয়েন্ট। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে সূচক বাড়ে ১৪ পয়েন্ট। ১০টা ৪৫ মিনিটে সূচক ১৫ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর থেকে সূচক কমতে থাকে। ১০টা ৫০ মিনিটে সূচক বাড়ে ৬ পয়েন্ট। ১০টা ৫৫ মিনিটে সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর সূচক গত কার্যদিবসের চেয়ে নেতিবাচক হতে শুরু করে। বেলা ১১টায় সূচক ১ পয়েন্ট কমে এবং বেলা ১১টা ১০ মিনিটে ডিএসইএক্স কমে ৬ পয়েন্ট। কিন্তু এরপর সূচক আবার বাড়তে থাকে। বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএসইএক্স ১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ১৩৪ পয়েন্টে।

অন্যদিকে, ডিএসই-৩০ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করেছে এক হাজার ৮৩২ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহসূচক এক পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করেছে এক হাজার ১৭৮ পয়েন্টে।

এদিন বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৮৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের। একই সময়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১১৪টির, কমেছে ১৫৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬১টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

এদিন বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ডিএসইতে দাম বৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় আছে- ফরচুন সু, সি পার্ল রিসোর্ট, সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স, বিকন ফার্মা, ন্যাশনাল পলিমার, রানার অটোমোবাইল, নিটল ইন্স্যুরেন্স, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউনাইটেড পাওয়ার এবং সিলকো ফার্মা।

সিএসই

অন্যদিকে, একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাধারণ সূচক (সিএসইএক্স) ৮ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৫৫০ পয়েন্টে, সিএসই-৩০ সূচক ১২ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৯৩৪ পয়েন্টে এবং সিএএসপিআই সূচক ১৬ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৭১৪ পয়েন্টে অবস্থান করে।

এদিন বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সিএসইতে ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়েছে।

একই সময়ে দাম বাড়ার ভিত্তিতে সিএসই’র শীর্ষ কোম্পানিগুলো হলো- এসইএমএল আইবিবিএল ফান্ড, স্কয়ার টেক্সটাইল, ন্যাশনাল ফিড মিল, শিফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, ট্রাস্ট ব্যাংক, শাইনপুকুর সিরামিকস, এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স এবং ডোরিন পাওয়ার।

এসবিসির পাওনা পরিশোধে ৪০ বিমা কোম্পানির গড়িমসি

এসবিসির পাওনা পরিশোধে ৪০ বিমা কোম্পানির গড়িমসি
সাধারণ বিমা করপোরেশন

সরকারি প্রতিষ্ঠান সাধারণ বিমা করপোরেশনের (এসবিসি) পাওনা পরিশোধে গড়িমসি করছে ৪০টি নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। বিমা কোম্পানিগুলোর কাছে ৫৭২ কোটি ৫৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫০১ টাকা পাওনা রয়েছে এসবিসির।

পুনঃবিমার প্রিমিয়ামের এই টাকা ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু চলতি বছরের ১৫ জুলাইয়ের মধ্যেও তা পরিশোধ করেনি বিমা কোম্পানিগুলো।

পাওনা টাকা আদায়ে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে অভিযোগ করেছে এসবিসি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তাতেও খুব বেশি ফল পায়নি সরকারি প্রতিষ্ঠানটি।

নিময় অনুসারে ঝুঁকি কমাতে কোম্পানিগুলোর বিমার ওপর শতভাগ পুনঃবিমা করার বিধান রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ সাধারণ বিমা করপোরেশনে করা বাধ্যতামূলক। বাকি ৫০ শতাংশ পুনঃবিমা কোম্পানি ইচ্ছা করলে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে করতে পারে।

পুনঃবিমার এ আইন অনুসারে ৪০টি বিমা কোম্পানির কাছে ৫৭২ কোটি ৫৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫০১ টাকা পাবে এসবিসি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বিমা কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে টাকা পরিশোধ করছে না। এতে এসবিসির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিমাখাতও। বিমা কোম্পানির প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন গ্রাহকরা।

এসবিসি’র ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জাকির হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, নিয়ম অনুসারে কোম্পানিগুলো এসবিসিকে পুনঃবিমার প্রিমিয়াম বাবদ এই টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোম্পানিগুলো টাকা দিতে গড়িমসি করছে।

তিনি বলেন, আমরা পাওনা টাকা দ্রুত আদায়ের লক্ষ্যে চেষ্টা করছি। পাশাপাশি বিমা কোম্পানিগুলোর ক্লেইমগুলো পরিশোধ করছি। যাতে বিমা কোম্পানিগুলো দ্রুত প্রিমিয়াম পরিশোধ করে। আইডিআরএ’র মনিটরিং টিমকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত তথ্য অনুসারে, এসবিসি’র সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৫৬ কোটি ৫০ লাখ ৬ হাজার ৫৯ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৪৭ কোটি ৮৬ লাখ ৩৮ হাজার ৭৫৯ টাকা, তৃতীয় অবস্থানে থাকা কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৪২ কোটি ১২ হাজার ৩১ হাজার ৬৪৭ টাকা পাওনা রয়েছে।

এছাড়াও চতুর্থ স্থানে থাকা ইসলামিক ইসন্স্যুরেন্সের কাছে ৩৩ কোটি ৭১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৩টাকা ও পঞ্চম স্থানে থাকা ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৩৩ কোটি ৫৭ লাখ ২৩ হাজার ৯৬৪ টাকা পাওনা রয়েছে।

ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৩৩ কোটি ৭৬ লাখ ১৭ হাজার ৮৩ টাকা, জনতার কাছে ৩৩ কোটি ৪২ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকা, পিপলস ইন্স্যুরেন্সের ৩২ কোটি ৭ লাখ ৩১ হাজার ৮৭৩ টাকা, কর্ণফুলীর কাছে ২৬ কোটি ৬৬ লাখ ১২ হাজার ৩৫৪ টাকা, মেঘনার কাছে ২৬ কোটি ৯৮ লাখ ৬২ হাজার ৭৮০ টাকা, রূপালী ইন্স্যুরেন্সের কাছে ২৪ কোটি ৫৯ লাখ ৮১ হাজার ৪০৬ টাকা, ইস্ট ল্যান্ডের কাছে ১৮ কোটি ৫৫ লাখ ৩৬ হাজার ১২৯ টাকা, এশিয়ার কাছে ১৮ কোটি ৪১ লাখ ৫৭ হাজার ৬২৪ টাকা, ইসলামী কমার্শিয়ালের কাছে ১৭ কোটি ৩৩ লাখ ৬৫ হাজার ১১ টাকা, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছে ১৬ কোটি ৩৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের কাছে ১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২ হাজার ৪৩৭ টাকা পাওনা রয়েছে এসবিসির।

এছাড়াও এশিয়া প্যাসিফিকের কাছে ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ২২ হাজার ১৯১ টাকা, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের কাছে ১৪ কোটি ৫৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯৯১ টাকা, সোনার বাংলার কাছে ২ কোটি ৭৮ লাখ২০ হাজার ৯৭ টাকা, রিপাবলিকের কাছে ১৩ কোটি ২০ লাখ ৮৫ হাজার ২৫০ টাকা, মার্কেন্টাইলের কাছে ১৪ কোটি ৫৪ লাখ ৮৯ হাজার ৩৮০ টাকা, সিটি’র কাছে ৮ কোটি ৬৪ লাখ ৩ হাজার ৯০৮ টাকা, প্রভাতীর কাছে ১০ কোটি ৮৯ লাখ ১৭ হাজার ৭৬২ টাকা, দেশ ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৮ কোটি ৮৪ লাখ ৯ হাজার টাকা ও রিলায়েন্সের কাছে ১২ কোটি ৯৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৬৫ টাকা পাবে এসবিসি।

১০ কোটি টাকার নিচে পাওনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স, বিডি করপোরেশন, বিডি ন্যাশনাল, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, ক্রিস্টালের, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন, ফেডারেল,গ্লোবাল, নিটলের, নর্দান, প্যারামাউন্ট, ফনিক্সের, প্রাইম, তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, ইউনাইটেড, ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, স্ট্যান্ডার্ড, সাউথ এশিয়ার, সিকদার ইন্স্যুরেন্স, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স, পূরবী ইন্স্যুরেন্স এবং সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পাওনা রয়েছে এসবিসি'র।

নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, সাধারণ বিমা করপোরেশনের কাছে বিমা দাবি পাওনা রয়েছে। পাওনাগুলো সমন্বয় করা হলে খুব বেশি টাকা বাকি থাকবে না।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র