Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

এরশাদের মৃত্যুতে দলগুলোর কৌশলী শোক!

এরশাদের মৃত্যুতে দলগুলোর কৌশলী শোক!
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

একাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের (৮৯) মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাসদ, গণফোরামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতি সংগঠন শোক জানিয়েছেন। তাদের কারো শোকবার্তায় যেমন এরশাদের কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণা করা হয়েছে, আবার কারো বার্তায় সাদামাটা শোক জানিয়ে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়েছে। দলগুলোর  কৌশলী শোক প্রকাশ নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে আলোচনা।

এরশাদের মৃত্যুতে আওয়ামী লীগের পক্ষে শোকবার্তা দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শোকাবার্তায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-এর পবিত্র আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং তাঁর শোক-সন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন তিনি।

বিএনপির পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করেছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সাবেক সেনাপ্রধান ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারবর্গ ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।’

আরো শোক জানিয়েছেন জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)। শোকজ্ঞাপনের পাশাপাশি দলের চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার ও মহাসচিব জাফরুল্লাহ খান চৌধুরী লাহরী শোক বিবৃতিতে বলেন, ‘গ্রাম বাংলার অভূতপূর্ব উন্নয়নসহ সারা দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উদ্যোগ ও অবদানের কথা জাতি চিরকাল সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করবে। ’

জাপা চেয়ারম্যান এরশাদের মৃত্যুতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতারও শোক জানিয়েছেন। শোক বার্তায় তারা শোক সন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

ভিন্ন শোক বিবৃতিতে জাকের পার্টি চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল বলেন, ‘তার মতো একজন জাতীয় নেতার ইন্তেকাল অবশ্যই জাতীয় রাজনীতিতে অনুভূত হবে।  প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ উদ্যোগ, অবকাঠামো ও পল্লীর উন্নয়ন তথা দেশ ও জাতির উন্নয়ন  এবং অগগ্রতিতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবদান জনগণ স্মরণে রাখবে।’

আরো শোক জানিয়েছে ইন্ডিয়ান বংশোদ্ভুদ উর্দূভাষী সংখ্যালঘু কাউন্সিল। তারা বলেন, এরশাদ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে উর্দূভাষীদের উচ্ছেদকৃত সম্পদ ফিরিয়ে দিতে পূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক তালিকা করে তা বরাদ্দে নির্দেশ দেন। এছাড়াও এরশাদ মিরপুর বেনারশি পল্লী গড়ে তোলে বেনারশি শিল্পকে রক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছিল।

এরশাদের মৃত্যুতে ড. কামাল হোসেনর দল গণফোরামও দিনশেষে সন্ধ্যায় এক শোকবার্তা পাঠায়। কৌশলী এ শোকবার্তায় গণফোরাম থেকে বলা হয়, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে গণফোরাম গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে। গণফোরাম শোকাহত পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :

১/১১ -এর ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি

১/১১ -এর ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

২০০৭ সালে ১/১১ ঘটনার মাধ্যমে যারা দেশে সেনাসমর্থিত অগণতান্ত্রিক সরকার আনতে বাধ্য করেছিল, সেই ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা।

দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস উপলক্ষে বুধবার (১৭ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে স্বপ্ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সিনিয়র কয়েকজন নেতা এ দাবি জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ’১/১১ -এর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে অন্যায়ভাবে তাকে জেলে পাঠানো হয়ে হয়েছিল। যারা এ ষড়যন্ত্রে জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিৎ।’

আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দেশের বাইরে এখনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এসব ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না। দেশের মানুষ শেখ হাসিনার সরকারের সাথে আছে। দেশের মানুষের সমর্থন আছে বলেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বারের মতো দেশ পরিচালনা করছে আওয়ামী লীগ।

২০০৭ সালে সালে মাইনাস টু নয়, মাইনাস ওয়ান ষড়যন্ত্র হয়েছিল দাবি করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, কেবল শেখ হাসিনাকে দেশর জনগণ ও রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে ৭১-এর শত্রু ও তাদের মিত্ররা এ ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছিল।

তিনি দাবি করেন, জনগণ উদগ্রীব ছিল বলে জনদাবির মুখে শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় তৎকালীন সেনা সর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে হানিফ বলেন, তিনি কেবল আইনি প্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুবাদে মুক্তি পেতে পারেন। আন্দোলন করে লাভ হবে না।

সভায় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ২০০৭ ও ২০০৮ সালে সংস্কারের নামে অওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতা সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সহযোগিতা করে দলের সভাপতি শেখ হাসিনাকে নির্লজ্জভাবে সরাতে চেয়েছিল। শেখ হাসিনার মুক্তির জন্য দলের অনেক সিনিয়র আইনজীবীও কোনো প্রচেষ্টা চালাননি। সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ জুনিয়র বেশ কিছু আইনজীবী নিয়ে অইনি লড়াই চালিয়ে যান।

সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, দেশের জনগণ চেয়েছিল বলেই ১/১১ -এর সেনাসমর্থিত সরকার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

স্বপ্ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন রুহুল, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই সেনাসর্থিত তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ১১ জুন সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।

অ্যাড. মনিরের বহিষ্কারাদেশ তুলে নিল বিএনপি

অ্যাড. মনিরের বহিষ্কারাদেশ তুলে নিল বিএনপি
অ্যাড. মনির হোসেন/ ছবি: সংগৃহীত

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট শাখার সহ-সভাপতি অ্যাড. মনির হোসেনের বহিষ্কারাদেশ তুলে নিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের চিঠির অনুলিপি হাতে পেলেও গত ১১ জুলাই বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী এতে স্বাক্ষর করেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দলের গঠনতন্ত্রের ৫ (গ) ধারা মোতাবেক মনির হোসেনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। মহাসচিবের নির্দেশক্রমে এ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হলো।’

প্রসঙ্গত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির গত ১৩ ও ১৪ মার্চের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের বাইরে স্বতন্ত্র সম্পাদক প্রার্থী হন অ্যাড. মনির হোসেন। দলের সমর্থিত প্যানেলের বাইরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় গত ১২ মার্চ আইনজীবী মনির হোসেনকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র