Alexa

বাজেট ২০১৯-২০

আঞ্চলিক বরাদ্দ না থাকায় আশাহত খুলনাবাসী

আঞ্চলিক বরাদ্দ না থাকায় আশাহত খুলনাবাসী

খুলনা মহানগরী, ছবি: বার্তা২৪

২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শীর্ষক ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছে সরকার। এতে বেকারত্ব দূরীকরণ, সামাজিক নিরাপত্তা, আমদানি ও রপ্তানিকারকদের সুবিধা ছাড়া নানা বিষয় ভালোভাবেই দেখছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। তবে আঞ্চলিক বরাদ্দ না থাকায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন দক্ষিণাঞ্চল বিশেষ করে খুলনার মানুষ।

পাশাপাশি সুন্দরবন রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি রুখতে উপকূলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে থোক বরাদ্দের দাবি খুলনাবাসীর।

আর পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নয়ন, হযরত খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ, মংলা বন্দরের আধুনিকায়নসহ সর্বনিম্ন আয়কর বৃদ্ধির দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের।

Khulna City

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব আশরাফ উজ জামান বার্তা২৪.কমকে বলেন, খুলনার জন্য আঞ্চলিক বরাদ্দ না থাকায় হতাশ আমরা। বাজেটে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল বরাবরই বঞ্চিত। প্রস্তাবিত বাজেটে খুলনাসহ এ অঞ্চলের জন্য কোনো চমক নেই। শিল্পাঞ্চলখ্যাত খুলনার পাটকলের অস্থিরতা দূরীকরণে বিশেষ পদক্ষেপ এবং এ অঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়নে আমরা জেলা বাজেটের দাবি জানিয়ে আসলেও তা কার্যকর হয়নি কখনো।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন আন্দোলনের চেয়ারম্যান শেখ মো. নাসির উদ্দিন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ঘোষিত এ বাজেট উচ্চ বিলাসী। এ বাজেট দুর্নীতিবাজদের সাহায্য করবে, অপরদিকে বাজেটের ঘাটতি জনগণের উপরে পড়বে। এ যেন মরার উপরে খড়ার ঘা! গরিব মারার বাজেট দিয়ে দেশ ও জাতির উন্নয়ন হবে না। বাজেটে খুলনাঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানাই।

এদিকে বনাঞ্চল রক্ষায় বাজেটে কোনো বরাদ্দ না থাকায় সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়নকর্মীরাও হতাশা প্রকাশ করেছেন। সুন্দরবন রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি রক্ষায় উপকূলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে থোক বরাদ্দের দাবি উঠেছে।

Khulna City

উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন গুহ বার্তা২৪.কমকে বলেন, সুন্দরবন রক্ষা ও সুন্দরবন কেন্দ্রিক জীবিকা নির্বাহ করা মানুষের জন্য বাজেটে কোনো বরাদ্দ নেই। সুন্দরবন রক্ষার জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে বরাদ্দের দাবি জানালেও তা বাজেটে আনা হয়নি। এছাড়া উপকূলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তেমন কোনো চমক নেই। এসব এলাকার মানুষের জন্য ‘ওয়াটার ফর অল’ কার্যক্রমেও কোনো বরাদ্দ নেই। আমরা আশা করছি, সংশোধিত বাজেটে সুন্দরবন রক্ষা ও উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়নের বিশেষ বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হবে।

খুলনার ব্যবসায়ী নেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসাবান্ধব ও উন্নয়নমুখী। ব্যবসার পরিধি সম্প্রসারণ ও অর্থনীতির উন্নয়নে এ বাজেট হবে মডেল। যুবক শ্রেণীর উন্নয়নে এ বাজেট কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে অগ্রযাত্রার সাথে তাল মিলিয়ে এ বাজেটে আরো কিছু সংযোজন করলে ভালো হতো। ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণীর মানুষের আয়করের সর্বনিম্ন সীমা আড়াই থেকে সাড়ে তিন লাখ করার দাবি জানাই।

আপনার মতামত লিখুন :

অর্থনীতি এর আরও খবর