Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

নাফ নদী থেকে ফিরেছেন অপহৃত মাঝিরা

নাফ নদী থেকে ফিরেছেন অপহৃত মাঝিরা
নাফ নদী / ছবি: বার্তা২৪
উপজেলা করেসপন্ডেন্ট
টেকনাফ
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

কক্সবাজারের নাফ নদী থেকে ট্রলারসহ ফিরেছেন অপহৃত চার মাঝি-মাল্লা। তবে তারা মুক্তিপণের টাকা দিয়ে ফেরত এসেছেন বলে স্থানীয়রা জানালেও মালিকপক্ষ টাকার বিষয়টি অস্বীকার করছেন।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে তারা সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়া সংলগ্ন নাফ নদের পাড়ে এসে পৌঁছান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে সেখান থেকে তারা পায়ে হেঁটে নিজের বাড়িতে চলে যান।

অপহৃত মাঝিরা হলেন- টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ বাজার পাড়ার বাসিন্দা আজিম উল্লাহ মাঝি, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, আবুল কালাম ও মোহাম্মদ হাসান। এদের মধ্যে মোহাম্মদ হাসান পুরাতন রোহিঙ্গা বলে জানা গেছে।

শাহপরীর দ্বীপ বাজার পাড়া এলাকার বাসিন্দা ট্রলার মালিক আমান উল্লাহ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘চার মাঝি ফেরত এসেছে বলে শুনেছি। তাদের সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। তারা কীভাবে এসেছে তাও জানি ন।’

আরও পড়ুন: মিয়ানমারে অপহৃত মাঝিদের ছাড়তে মুক্তিপণ দাবি

এর আগে মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) সকালে আমান উল্লাহর মালিকানাধীন একটি ট্রলারে দ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদ এলাকায় চার মাঝি-মাল্লা মাছ শিকারে যায়। এর কিছুক্ষণ পর মিয়ানমারের বিজিপির একটি দল স্পিডবোটে এসে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ট্রলারসহ তাদের ধরে নিয়ে যায়।

ওই দিন সন্ধ্যার দিকে ট্রলার মালিক আমান উল্লাহর কাছে মিয়ানমারের একটি ফোন নম্বর থেকে কল করে ট্রলার ও মাঝি-মাল্লাদের ছাড়িয়ে নিতে মিয়ানমারের ২০ লাখ কিয়াট দাবি করা হয়। যদি দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করা হয় তাহলে ট্রলারসহ মাঝি-মাল্লাদের ফেরত দেওয়া হবে। দাবিকৃত টাকা পরিশোধের জন্য বুধবার পর্যন্ত সময় নেয় মালিক।

এ প্রসঙ্গে সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফজলুল হক বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া চার জেলে ফিরে এসেছে বলে শুনেছি। তবে কীভাবে ফেরত এসেছে তা জানি না।’

আপনার মতামত লিখুন :

দৌলতদিয়া ও পাংশাতে পদ্মার পানি বিপদসীমার উপরে

দৌলতদিয়া ও পাংশাতে পদ্মার পানি বিপদসীমার উপরে
দৌলতদিয়া ও পাংশাতে পদ্মার পানি বিপদসীমার উপরে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাজবাড়ীর তিনটি পয়েন্টের মধ্যে দুটি দৌলতদিয়া ও পাংশাতে পদ্মার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপর পয়েন্টে রয়েছে বিপদসীমার নিচে।

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকোর কার্যালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, আজ শুক্রবার (১৯জুলাই) সকাল ৬টায় পরিমাপকৃত প্রতিবেদন অনুযায়ী রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়াতে পদ্মার পানি দশমিক ৫৪ সেন্টিমিটার এবং পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে দশমিক ৩১ সেন্টিমিটার বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া রাজবাড়ী সদরের মহেন্দ্রপুর পয়েন্টে এখন পদ্মার পানি বিপদসীমার ১.২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে, পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজবাড়ীর বেশ কয়েকটি গ্রাম নতুন করে ভাঙনের শিকার হচ্ছে। নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে বৃষকের ফসলি জমি ও বসতভিটা।

আর দৌলতদিয়ায় নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে স্রোতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। যার কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। উভয় পাড়ে অপেক্ষা করছে হাজারও যানবাহন। যাত্রীদের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়েছে চালক ও শ্রমিকরা।

স্রোতের বেগে ফেরি চলাচলে ধীরগতি, অপেক্ষায় হাজারও যান

স্রোতের বেগে ফেরি চলাচলে ধীরগতি, অপেক্ষায় হাজারও যান
নদী পারের অপেক্ষায় যানবাহন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গত এক সপ্তাহ ধরে যানজট রয়েছে দক্ষিাণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের অন্যতম প্রবেশদ্বার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায়। প্রতিদিন শত শত যানবাহন অপেক্ষা করছে ঘাট পারের জন্য। যাত্রীবাহী বাসগুলোকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা করে। আর পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে দুই থেকে তিনদিন পর্যন্ত। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রী সাধারণসহ নদী পারের অপেক্ষায় থাকা বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও শ্রমিকরা।

কবে নাগাদ এই ভোগান্তি থেকে রেহাই মিলবে, তা বলতে পারছে না ঘাট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীতে তীব্র স্রোত রয়েছে। আর স্রোতের অতিরিক্ত বেগের কারণে ফেরিগুলো চলতে পারছে না। ফলে সহসাই এ ভোগান্তি থেকে মিলছে না মুক্তি।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাজারও যানবহন নদী পারের জন্য ঘাটে অপেক্ষা করছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563504496406.jpg

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার বিভিন্ন শ্রেণির যানবাহন চলাচল করে। আর এ সকল যানবাহন পারাপারের জন্য এই নৌরুটে রয়েছে ২০টি ফেরি। কিন্তু ফেরিগুলো অনেক পুরাতন হওয়ায় ইঞ্জিনগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে বেশির ভাগ সময়ই কম সংখ্যক ফেরি চলাচল করে।

এছাড়া নদীতে স্রোতের বেগ বেড়ে গেলেই ফেরি আর চলতে পারে না। স্বাভাবিক সময়ের থেকে দ্বিগুণ সময় লাগছে নদী পার হতে। ফলে ফেরিগুলোর ট্রিপ কমে যাচ্ছে। তবে ঈদের সময় ২০টি ফেরিই চলাচল করে।

শুক্রবার (১৯জুলাই) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, দৌলতদিয়া টার্মিনালে নদী পারের জন্য অপেক্ষা করছে প্রায় দেড় থেকে দুইশত পণ্যবাহী ট্রাক। আর দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে গোয়ালন্দ বাজার ছাড়িয়ে গেছে যানবাহনের লাইন। প্রায় ৬ কিলোমিটার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এখন নদী পারের জন্য অপেক্ষা করছে প্রায় ৭-৮ শত যানবাহন। এর মধ্যে যাত্রীবাহী বাস রয়েছে প্রায় শতাধিক।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563504509367.jpg

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আব্দুল্লাহ রনি বার্তাটোয়েন্টিফো.কমকে বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরেই নদী পারের জন্য ঘাট এলাকায় লম্বা সময় ধরে অপেক্ষা করছে যানবাহন। কিন্তু আমরা কি করব। নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে ফেরিগুলো স্বাভাবিকভাবে চলতে পারছে না। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) তীব্র স্রোতের কারণে ইঞ্জিনে অতিরিক্ত চাপ পড়ায় বেশ কয়েকটি ফেরিতে আগুন ধরে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তো আপ্রাণ চেষ্টা করছি যাতে ঘাট এলাকায় যাত্রী ও যানবাহন চালক-শ্রমিকদের কোনো ভোগান্তি পোহাতে না হয়। কিন্তু প্রকৃতির কছে আমরা অসহায়।’

দৌলতদিয়া ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আবুল হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘প্রবল স্রোতের কারণে ফেরিগুলোর নদী পার হতে বেশি সময় লাগায় ঘাটে যানবাহনের চাপ লেগেই আছে। তবে যাত্রীদের যাতে কোনো ভোগান্তিতে পড়তে না হয় সে বিষয়টি বিবেচনা করে আমারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী বাসগুলোকে আগে নদী পার করছি।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র