বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশের ১৬৩ বছর



কাজী মাহবুবুর রহমান, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট
সতীদাহ প্রথা / ছবি. উইকিপিডিয়া

সতীদাহ প্রথা / ছবি. উইকিপিডিয়া

  • Font increase
  • Font Decrease

ঊনবিংশ শতাব্দীতে উপমহাদেশের ইতিহাসে কলংকের তিলক হিসেবে লেপ্টে ছিল সতীদাহপ্রথা এবং বিধবা বিবাহের বৈধতা না থাকা। তৎকালীন সমাজ সংস্কারের জন্য যে কয়টি আন্দোলনের ইতিহাস আমরা দেখতে পাই তার মধ্যে হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আন্দোলন অন্যতম। বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের ব্যাপক প্রচলনের কারণে সমাজে বিধবার সংখ্যা মারাত্নকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। কিন্ত তখন বিধবা বিবাহের প্রচলন ছিল না। তাই বিধবা পুনর্বিবাহের জন্য সমাজসংস্কার আন্দোলন সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

ঊনবিংশ শতাব্দীর এই নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃত ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। অক্লান্ত পরিশ্রম ও নানা বাধাবিপত্তি পেরিয়ে তিনি এই নবজাগরণ ঘটাতে সক্ষম হন—১৮৫৬ সালের ১৬ জুলাই বিধবা পুনর্বিবাহের আইন পাশ হয়। এই আইন পাশের মধ্যদিয়ে বিধবা বিবাহের সকল বাধা দূর হয়।

তৎকালীন হিন্দুস্তানের প্রেক্ষাপটে এই আইন পাশ করাটা মোটেও সহজ ছিল না। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরেরও একশ বছর আগে থেকে বিধবা বিবাহের পক্ষে লেখালেখি শুরু হয়। কিন্তু কট্টর রক্ষণশীল হিন্দু সমাজব্যবস্থার কারণে তা কখনোই সম্ভব হয়ে ওঠেনি। রাজা রাজবল্লভ তার নিজ বালিকা বিধবা কন্যার বিয়ে দেবার জন্য পণ্ডিতদের প্রচুর ভেট দিয়ে শাস্ত্রসম্মত অনুমতি লাভ করেছিলেন। কিন্ত তা অন্য আরেক প্রভাবশালী রাজা কৃষ্ণচন্দের কারণে ব্যর্থ হয়। এই ঘটনা ঘটেছিল বিদ্যাসাগরেরও একশ বছর আগে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আগে রাজা রামমোহন রায়ের আমলে এবং পরবর্তীকালে মধ্যশতকের ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের সক্রিয় কর্মীরাও বিধবা বিবাহের পক্ষে লেখালেখি করেন। জাতীয় আইন কমিশনও তখন বাল্যবিধবাদের পুনর্বিবাহের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেছিলেন। কিন্তু ধর্মীয় ইস্যু সামনে চলে আসায় তারা এর বিপরীতে যেতে সাহস করেননি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563350862179.jpg
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ◢

 

বিধবা বিবাহের বৈধতা প্রদান আন্দোলনের জন্য ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। প্রথম অবস্থায় তিনি জনমত তৈরিতে ব্যর্থ হন এবং প্রাচীনপন্থীদের চরম বিরোধিতার সম্মুখীন হন। এমনকি তাকে প্রাণ নাশের হুমকিও দেওয়া হয়। কিন্ত এতে বিদ্যাসাগর থেমে থাকেননি। ১৮৫৫ সালে বিধবা বিবাহ প্রচলন হওয়া উচিত কিনা, এই বিষয়ে প্রস্তাব (প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রস্তাব) রচনা করেন। শুধু ধর্মীয় জনগোষ্ঠীই নয়, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পণ্ডিত ব্যক্তিত্ব বঙ্কিমচন্দ্রও এর বিরোধিতা করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্র তার ‘বিষবৃক্ষে’ সূর্যমুখীকে দিয়ে বলিয়েছেন, “যে বিধবা বিবাহের ব্যবস্থা দেয়, সে যদি পণ্ডিত হয় তবে মূর্খ কে?”

অপরদিকে বিদ্যাসাগর তখন বলেছিলেন, “বিধবা বিবাহ প্রবর্তন আমার জীবনের সর্ববৃহৎ সৎকর্ম। এ জন্মে ইহার চাইতে সৎকর্ম করিতে পারিব তাহার সম্ভাবনা নাই। এ বিষয়ের জন্য সর্বশান্ত হইয়াছি এবং আবশ্যক হইলে প্রাণ দিতেও দ্বিধাবোধ করিব না।”

তিনি আরো বলেছেন, “আমি দেশাচরের নিতান্ত দাস নহি, নিজের বা সমাজের মঙ্গলের জন্য যা করা আবশ্যক বোধ হইবে তাহাই করিব। লোকের বা কুটুম্বদের ভয়ে কদাচ সঙ্কচিত হইব না।”

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563351247898.jpg
ব্রিটিশ লর্ড ক্যানিং ◢

 

অবশেষে পর্বতসম বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করে সমাজ সংস্কারের নায়ক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৫৫ সালের ১৭ নভেম্বর বঙ্গীয় ব্যপস্থাপক সভায় বিধবা বিবাহ আইনের খসড়া পেশ করলে ভারতে এর পক্ষে বিপক্ষে তুমুল আন্দোলন শুরু হয়। ভারত সরকারের কাছে রাজা রাধবকান্ত এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৮,০০০ হাজার লোকের স্বাক্ষরিত এক আবেদনপত্র পাঠান। বিভিন্ন পণ্ডিতগণও এর বিরুদ্ধে আবেদনপত্র পাঠাতে থাকেন। অবশেষে আদালত বিদ্যাসাগরের পক্ষে রায় প্রদান করেন৷ বন্ধ হয় প্রথার নামে পরোক্ষ নারীহত্যা। বিধবাদের পুনর্বিবাহ চালু হওয়ায় হিন্দু নারীগণ তাদের বিবাহের অধিকার ফিরে পায় এবং সতীদাহ নামক কুপ্রথার হাত থেকে রক্ষা পায়।

১৮৫৬ সালের ১৬ জুলাই ব্রিটিশ লর্ড ক্যানিং বিধবা বিবাহকে আইনি বৈধতা প্রদান করেন৷

   

মাঝরাতে আইসক্রিম, পিৎজা খাওয়া নিষিদ্ধ করল মিলান!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: স্কাই নিউজ

ছবি: স্কাই নিউজ

  • Font increase
  • Font Decrease

আইসক্রিম, পিৎজা অনেকের কাছেই ভীষণ পছন্দের খাবার। তবে ইউরোপসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে মাঝরাতে এসব মুখরোচক খাবার ও পানীয় খাওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। ইতালিতে জেলাটিনের তৈরি আইসক্রিম খুব বিখ্যাত। এজন্য ইতালিতে 'জেলাটো সংস্কৃতি' নামে একটা কালচার গড়ে উঠেছে। সম্প্রতি ইতালির মিলানের বাসিন্দাদের জন্য একটি নতুন আইন প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিবেদন- স্কাই নিউজ।

মিলানে বসবাসকারীদের অধিকাংশই মাঝরাতে রাস্তায় ঘোরাঘুরি করে আইসক্রিম, পিৎজা, ফাষ্টফুড জাতীয় খাবার ও পানীয় পান করে থাকে। এতে করে সেখানকার এলাকাবাসীদের রাতের ঘুম বিঘ্নিত হয়। নতুন প্রস্তাবিত আইনে শহরবাসীর রাতের ঘুম নির্বিঘ্ন করতে মধ্যরাতের পর পিৎজা ও পানীয়সহ সব ধরনের টেকওয়ে খাবার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তবে মধ্যরাতের পর আইসক্রিম নিষিদ্ধ করার চেষ্টা এবারই প্রথম নয়। ২০১৩ সালে, তৎকালীন মেয়র গিউলিয়ানো পিসাপিয়া অনুরূপ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু 'অকুপাই জেলাটো' আন্দোলনসহ তীব্র প্রতিক্রিয়ার পরে তিনি এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

এরপর আবারও মিলানে এ আইনটি প্রস্তাব করেছেন ডেপুটি মেয়র মার্কো গ্রানেল্লি। দেশটির ১২টি জেলা এই প্রস্তাবের আওতাভুক্ত হবে বলে জানিয়েছে মিলান কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে মিলানের মেয়র গ্রানেল্লি বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সামাজিকতা ও বিনোদন এবং বাসিন্দাদের শান্তি ও প্রশান্তির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।

প্রস্তাবটি নিম্নলিখিত এলাকাগুলোতে প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছে মিলান কর্তৃপক্ষ: নোলো, লাজারেটো, মেলজো, ইসোলা, সারপি, ভায়া সিজারিয়ানো, আরকো ডেলা পেস, কোমো-গাইআউলেন্টি, পোর্টা গ্যারিবল্ডি, ব্রেরা, টিসিনিজ এবং দারসেনা-নাভিগলি।

জানা যায়, প্রস্তাবটি মে মাসের মাঝামাঝি থেকে কার্যকর থাকবে এবং নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এটি প্রতিদিন রাত ১২.৩০ টায় এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিন এবং সরকারী ছুটির দিনে রাত ১.৩০ টা থেকে প্রয়োগ করা হবে। তবে এ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে নাগরিকদের মে মাসের শুরু পর্যন্ত আপিল করার এবং আইন পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়ার সময় রয়েছে।

 

 

 

;

অস্ট্রেলিয়ায় নিখোঁজ কুকুর ফিরলো যুক্তরাজ্যের মালিকের কাছে



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অস্ট্রেলিয়ায় ঘুরতে এসে নিখোঁজ হয় যুক্তরাজ্যের এক দম্পতির পালিত কুকুর। যুক্তরাজ্যে আসার ১৭ দিন পর মিলো নামের কুকুরটিকে ফিরে পেয়েছেন জেসন হোয়াটনাল নিক রোল্যান্ডস দম্পতি।

হোয়াটনাল এবং তার সঙ্গী নিক সম্প্রতি তাদের কুকুর মিলোকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া পরিদর্শনে যান। তারা যখন সোয়ানসিতে বাড়িতে যাচ্ছিলেন তখন মেলবোর্ন বিমানবন্দরে তার হ্যান্ডলার থেকে কুকুরটি পালিয়ে যায়।

সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী কুকুরটিকে অবশেষে মেলবোর্নের শহরতলিতে ১৭ দিন পর খুঁজে পাওয়া যায়।


হোয়াটনাল স্কাই নিউজকে বলেন, ‘মিলোকে ফিরে পাওয়াটা খুবই আশ্চর্যজনক ছিল আমার জন্য। যখন আমি আমার প্রিয় মিলোর (কুকুর) সাথে পুনরায় মিলিত হয়েছিলাম, তখন আমি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলাম। আমার কান্না দেখে অন্যরাও কেঁদেছিল। এটি সত্যিই আবেগপ্রবণ ছিল।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অন্য প্রান্তে থেকে মিলোর কথা চিন্তা করে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম। আমরা জানতাম না মিলো কোথায় আছে। এটি বেশ হতাশাজনক ছিল আমাদের জন্য, কিছুটা আশা হারিয়ে ফেলেছিলাম। তাকে ফিরে পাবো ভাবিনি।

মিলোকে পাওয়ার জন্য সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছিলাম, তখন স্বেচ্ছাসেবকদের কাছ থেকে সাহায্য আসে, তারা মিলোর সন্ধান দেয়। মিলোকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের ধন্যবাদ।

;

আমার হাতের পাখা যেন তাদের আরাম দিচ্ছে!



মৃত্যুঞ্জয় রায়, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সাতক্ষীরা
ছবি: বার্তা২৪, তালপাতার পাখা বিক্রি করছে পাঁচ বছরের শিশু মাহমুদুল্লাহ

ছবি: বার্তা২৪, তালপাতার পাখা বিক্রি করছে পাঁচ বছরের শিশু মাহমুদুল্লাহ

  • Font increase
  • Font Decrease

আবু বক্কর (৬২)। বয়সের ভারে অসুস্থ হয়ে তিনি এখন পাকা বিক্রেতা। প্রচণ্ড তাপদাহে মানুষ যখন ঠান্ডা বাতাসের প্রশান্তি খুঁজছে, তখন তিনি গ্রামে গ্রামে গিয়ে তালপাতার পাখা বিক্রি করছেন।

আবু বক্কর বার্তা২৪.কমকে বলেন, স্ত্রীসহ ছয় মেয়ে নিয়ে আমার সংসার। তবে মেয়েদের বিয়ে দিতে পেরেছি। কিন্তু বয়সের ভারে ঠিকই আমরা একা থেকে গেলাম। শেষ বয়সে গ্রামে গ্রামে তালপাতা পাখা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছি। শুধু সংসার না, এই টাকায় আমার পায়ের শিরার ব্যথার ওষুধও কিনতে হয়। একবেলা ওষুধ না খেলে চলতে পারি না।

এদিকে, পুরনো ব্যবসার ঋণের বোঝা আর অন্যদিকে অসুস্থ হয়ে ওষুধসহ সংসারের খরচ। শেষ বয়সে তালপাতার পাখাই আমার একমাত্র জীবনসঙ্গী বলেন আবু বক্কর।

তালপাতার পাখা বিক্রি করছেন আবু বক্কর, ছবি- বার্তা২৪.কম

বুধবার (২৪ এপ্রিল) সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার কলাগাছি গ্রামের কবিগানের অনুষ্ঠানে সরেজমিন দেখা যায়, একপাশে তালপাতার পাখা বিক্রি করতে ব্যস্ত ছোট্ট পাঁচ বছরের শিশু মাহমুদুল্লাহ। এই গরমে যখন তার ঘরে থাকার কথা, তখন সে নানা-নানীর সঙ্গে এসে তালপাতার পাখা বিক্রি করছে। কবিগানে বসে থাকা সব শ্রোতার কাছে গিয়ে বলছে, পাখা লাগবে, পাখা! কথা বলতে চাইলেও এ পাশ ওপাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে, ক্রেতার কাছে।

এক ফাঁকে তাকে কাছে পেয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়, এই বয়সে পাখা বিক্রি করছো কেন! এ প্রশ্নের উত্তরে বার্তা২৪.কমকে মাহমুদুল্লাহ বলে, প্রচণ্ড গরমে স্কুল ছুটি। তাই, নানা-নানীর সঙ্গে চলে এসেছি মেলায় পাখা বিক্রি করতে। মানুষজন আমার কাছ থেকে যেন বেশি পাখা কেনে (ক্রয়), তাই আমি মেলায় তাদের সঙ্গে এসেছি।

অনেক উৎসাহের সঙ্গে সে বলে, গরমে আমার হাতের পাখায় যেন তাদের আরাম দিচ্ছে! মেলা হলে আমি সেখানে চলে যাই পাখা বিক্রি করতে। ঘোরাঘুরিও হয় আর টাকা ইনকামও হয়। টাকার জন্য বের হয়ে পড়েছি। আমরা পাখা বিক্রি করে পেট চালাই। নানা-নানী বুড়ো হয়ে গেছে। তাই, আমি সঙ্গে এসে তাদের কষ্টটাকে একটু ভাগাভাগি করে নিচ্ছি।

যেখানে প্রচণ্ড তাপে মানুষজন নাজেহাল, সেখানে ছোট্ট মাহমুদুল্লাহ ছুটে চলেছে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে পাখা বিক্রি করতে। ছোট্ট শিশু হলেও গরম যেন তার কাছে কিছু না, পেটের তাগিদে!

আরেক পাখা বিক্রেতা তালা উপজেলার হরিণখোলা গ্রামের বাসিন্দা ভদ্রকান্ত সরকার (৭০)। ১২-১৪ বছর ধরে এই পেশায় আছেন তিনি।

চলছে তালপাতার পাখার বিকিকিনি, ছবি- বার্তা২৪.কম

শেষ বয়সে পাখা কেন বিক্রি করছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে বার্তা২৪.কমকে ভদ্রকান্ত বলেন, চাল কিনে খেতে হয়। খুব কষ্টের সংসার! ছেলে-মেয়ে আছে। তারা তাদের মতো কাজ করে খায়। মা বাবার বয়স হয়ে গেলে ছেলে আর আমাদের থাকে না। আমরা বৃদ্ধ বয়সে কেমন আছি, সেটা জানার সুযোগ তাদের থাকে না। শেষজীবনটা এভাবে পাখা বিক্রি করে কাটিয়ে দেবো। কী আর করবো! কপালে যা আছে, শেষপর্যন্ত তাই হবে। কপালে ছিল, এমন বৃদ্ধ বয়সে গ্রামে গ্রামে পাখা বিক্রি করতে হবে!

;

৪ লাখ বছর আগে আদিম মানুষের যাত্রা শুরু



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত, নিউ সায়েন্টিস্ট থেকে

ছবি: সংগৃহীত, নিউ সায়েন্টিস্ট থেকে

  • Font increase
  • Font Decrease

৪ লাখ বছর আগে রাশিয়ার সাইবেরিয়া থেকে আদিম মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছিল বলে নতুন এক গবেষণা থেকে জানা গেছে। এখান থেকে যাত্রা শুরু করে এই গোত্রের মানুষ পরে উত্তর আমেরিকায় পৌঁছে যায়।

নতুন এক গবেষণা জানাচ্ছে, সাইবেরিয়ায় নতুন একটি এলাকার সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখানে ৪ লাখ ১৭ হাজার বছর আগে হোমিনিনস (Hominins) গোত্রের মানুষের উপস্থিতি ছিল। এই গোত্রের মানুষ ডিরিং ইউরিআখ এলাকায় বাস করতেন। সেখান থেকে তারা উত্তর আমেরিকায় পৌঁছে যায় বলে জানিয়েছেন চেক প্রজাতন্ত্রের এক গবেষক।

১৬ এপ্রিল চেক অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের গবেষক জন জেনসেন এক সংবাদ সম্মেলন করে নতুন এ তথ্য প্রকাশ করেন। গবেষণাবিষয়ক সংবাদ সাময়িকী নিউ সায়েন্সটিস্ট এ বিষয়ে একটি খবর প্রকাশ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জন জেনসেন বলেন, আমরা আগে যে ধারণা করতাম, তারও আগে থেকে হোমিনিনস গোত্রের মানুষ সাইবেরিয়ার ডিরিং ইউরিআখ এলাকায় বসবাস করতেন। ৪ লাখ ১৭ বছর আগে থেকেই তারা এই এলাকায় বসবাস করতে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের অবস্থান ছিল উত্তর অক্ষাংশে।

তিনি বলেন, আরেকটি আদিম গোত্রের মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়, যারা আর্কটিক অঞ্চলে বাস করতেন। ৪৫ হাজার বছর আগে তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

 

;