সেই বাড়িটা

গল্প, শিল্প-সাহিত্য

তানিয়া চক্রবর্তী | 2023-09-01 08:06:37

দুই বন্ধু ঠিক করে রাতে এই বাড়িতেই থাকবে। বাইরে থাকাটা নিরাপদ নয়। সকাল হলে নতুন করে কিছু ভাবা যাবে। ঘরের ভেতর ভাঙাচোরা আসবাব, মেঝেতে শুকনো পাতা, কাঠের টুকরো। বোঝা যায় এই বাড়ি বহুদিন কেউ ব্যবহার করে নি। দুটো ছোট ছোট ঘর। আর মাঝখানে একটা বাল্ব ঝুলছে সঙ্গে একটা সুইচও। নেহা সুইচ টিপলে বাল্বটা জ্বলে ওঠে। ওরা একটু শান্তি পায়। তারপরে একটা ঘরে গিয়ে দেখে একটা ভাঙা টিভি, আর তার উল্টোদিকে একটা বড় বসার জায়গা অনেকটা বেঞ্চের মতো।


এই ঘরটা বড্ড ময়লা বলে অনামিকা আর নেহা পাশের ঘরে যায়। সেখানে একটা চাদর পাতে একটা ভাঙা চৌকির ওপরে। তারপরে মোবাইলের আলো আর টর্চ জ্বালিয়ে দুজনে কথা বলতে থাকে। নেহা অনামিকাকে বলে “তোকে বলেছিলাম লোকটা খারাপ তুই বিশ্বাস করলি না। তাহলে আজ এটা হতো না” দুজনে এই নিয়ে অনেক কথা বলতে থাকে, অনামিকা নেহাকে সরি বলে জড়িয়ে ধরে। তারপর ভাবে কাল ওদের কোথায় যাওয়া উচিত কী করা উচিত! দুজনে গল্পে মগ্ন ছিল কেউ খেয়াল করেনি এতক্ষণে জানালায় এসে কে যেন দাঁড়িয়ে আছে। নেহা আচমকা তাকিয়ে চীৎকার করে সঙ্গে সঙ্গে অনামিকাও আর তার সঙ্গে জানলায় দাঁড়ানো মূর্তিটাও হাসতে হাসতে চলে যায়। নেহা দেখতে পায় ঝাঁকড়া খোলা চুলের একটা মেয়ে। এতরাতে এরকম নিশুতি জায়গায় এরকম আচরণের একটা মেয়ে দেখে দুই বন্ধু বুঝতে পারে কোনো পাগল-টাগল হবে।

কত মেয়েইতো অঘটন ঘটে এরকম পাগল হয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। নেহার হঠাৎ জল পিপাসা পায়। বুঝতে পারে জলটা গাড়িতেই ফেলে এসেছে। দুই বন্ধু মিলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে দেখে গাড়ি নেই --- কোথাও গাড়ির কোনো চিহ্ন নেই। অথচ ওদের জিনিসগুলো রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা রয়েছে, ভীষণ অবাক লাগে দুজনের। তাহলে কেউ কী ওদের খেয়াল রাখছে? দুজনেই আতঙ্কিত হয়ে ভাবে বাইরে আর একমুহূর্ত নয় এবার ভোর অবধি ওরা বাড়ি থেকে বেরোবে না কিছুতেই। বাড়িতে ঢোকার মুখে অনামিকা আর নেহা দেখতে পায় সামনের একটা গাছে এই মধ্যরাতে ঠিক ঐ পাগলটার মতো ঘন চুলের যেন একটা মেয়ে পা দুলিয়ে গাছে বসে আছে। স্পষ্ট দেখা যায় না! দুই বন্ধুর ভয়ে শরীরে কাঁটা দেয়। কিন্তু অনামিকা নেহাকে বলে “ভয় পাস না ঐ পাগলটাই হবে”।

দুজনে দরজা বন্ধ করে ঘরে ঢোকে। চারিদিক বন্ধ করে শুতে যায় ওরা। যে ঘরে শুতে যায় সেই ঘরের দরজা জানলা সব বন্ধ করে । দুজনে গায়ে চাদর দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। হঠাৎ একটা আওয়াজে ঘুম ভেঙ্গে যায় নেহার।অন্ধকারে আবছা দেখতে পায় ঘরের উল্টোদিকের দেয়ালের একটা তাকে কেউ পা ঝুলিয়ে বসে পা দোলাচ্ছে । মুখ বা শরীর দেখা যায় না কেবলমাত্র দুটো ঝুলন্ত পা। গা ঘেমে যায়, গলা শুকিয়ে আসে নেহার, আস্তে আস্তে নিজেকে চাদরে আরও মুড়ে নেয়।

হাত দিয়ে আলতো করে অনামিকাকে ঠেলতে যায় নেহা, ডাকতে থাকে কিন্তু হাত গিয়ে ঠেকে কোনো নরম জিনিসে যেন বালিশ। আরেকটু ঠেলতেই নেহা বুঝতে পারে খাটে অনামিকা নেই একটা চাদরের পুঁটলি তার ঠেলায় নীচে পড়ে গেছে। মনে সাহস এনে নেহা উঠে ফোনের আলো জ্বালিয়ে দেখে অনামিকা নেই। দেয়ালের দিকেও কিছু নেই । সারাঘর ফাঁকা। কাঁপতে থাকে নেহা। চীৎকার করে। অনামিকা, অনামিকা নাম ধরে ডাকে নেহা। কোনো সাড়া পায় না। উঠে দরজা খোলে নেহা। দরজা খুলতেই চমকে ওঠে নেহা। 

(ক্রমশ... আবার আগামী রোববার)

আরও পড়ুন: সেই বাড়িটা (প্রথম অংশ)

এ সম্পর্কিত আরও খবর